Showing posts with label ভূগোল. Show all posts
Showing posts with label ভূগোল. Show all posts

Thursday, June 25, 2026

মুহুরীর চর

মুহুরীর চর

 মুহুরীর চর হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি  বিতর্কিত ভূখণ্ড । টি ফেনী জেলার

 পরশুরাম উপজেলার বিলোনীয়া ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে মুহুরী নদীতে

 জেগে ওঠা চর ।



বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের আড়াই কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত করা যায়নি। ভারত এর ৬৬

 একর জমি জবর দখলের মাধ্যমে ভোগ করে আসছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ জরিপ

 অধিদফতর-এ সীমানা চিহ্নিত করতে জরিপ পরিচালনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। 

গত প্রায় দুই দশকে এই চর নিয়ে অসংখ্যবার দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ

 হয়েছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক। বাংলাদেশের জমির মালিকদের জমি-সংশ্লিষ্ট

 দলিলপত্র থাকলেও বিএসএফ-এর বাধার কারণে এসব জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।

 অপরদিকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মুহুরী নদীতে ভারত স্পার ও গ্রোয়েন নির্মাণ করেছে।



 এর মাধ্যমে নদীর গতিধারাকে ভারত ক্রমান্বয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের

 অভ্যন্তরে সুকৌশলে বিলোনীয়ার পাশে নিজ কালিকাপুর গ্রামের মুহুরী নদীর বাঁকে চরের

 অংশটি মূল চরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণে ক্রমাগত উত্তর অংশে ভারতের দিকে চরের

 সৃষ্টি হয়ে নদীর মোহনা বাংলাদেশের গভীরে ঢুকে যাচ্ছে। 




এছাড়া মুহুরী নদীর পাশে ভারত সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ৪০ ফুট

 প্রশস্ত নতুন সড়ক তৈরির কাজে সম্পন্ন করেছে। কৌশলে মুহুরীর চরের অধিকাংশ এলাকা

 ও তৎসংলগ্ন ভূভাগ নিজের এলাকাভুক্ত করে নিচ্ছে ভারত। ফলে পরশুরামের বিলোনীয়া

 ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। মুহুরির চর নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই দেশের

 কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করলেও সমাধান আসেনি। বাংলাদেশের কাছে স্থল সীমান্ত

 চুক্তির আওতায় মুহুরির চর হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। 




 উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জেগে ওঠা মুহুরীর চরের আয়তন ৯২ দশমিক ১৪      একর। এ চর নিয়ে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উভয় দেশের ভূমি

 মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে বাংলাদেশ

 পায় ৭১ দশমিক ৯৪ একর এবং ভারত পায় ২০ দশমিক ২০ একর। সর্বশেষ গত ২০১৪

 সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় উভয় দেশের জরিপ বিভাগ জরিপ

 কার্যক্রম পরিচালনা করে।





Sunday, June 21, 2026

দহগ্রাম ইউনিয়ন

দহগ্রাম ইউনিয়ন

দহগ্রাম ইউনিয়ন হলো লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল । এটি পাটগ্রাম উপজেলা হতে মাত্র ৫৮৪ ফুট দূরে অবস্হিত । 



দহগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দিকে তিস্তা নদী ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা এবং বাকি তিন দিকে ভারতীয় ভূখন্ড ।

দহগ্রাম ইউনিয়নে তিনবিঘা করিডোর ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হয়। তিন বিঘা করিডোরের দৈর্ঘ্য ৫৮৪ ফুট ও প্রস্হ ২৭৯  ফুট। এটি ভারতের কোচবিহার জেলা ও বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে অবস্হিত । 



আয়তন: প্রায় ২২.৬৮ বর্গকিলোমিটার।

জনসংখ্যা: ২০২৫ হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২০,০০০ জন।

ইতিহাস: ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা এলাকা নিয়ে স্বতন্ত্র এই ইউনিয়নটি গঠিত হয়। দীর্ঘ সময় স্হলপথের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সাথে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ১৯৯২ সালে তিনবিঘা করিডোর চালুর মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়।


নদী:

দহগ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী । দহগ্রামের প্রায় মাঝ বুক দিয়ে বয়ে গেছে সাকোয়া নদী।

দর্শণীয় স্হান:

১) তিনবিঘা কড়িডোর

২) আঙ্গোরপোতা জিরো পয়েন্ট

 ৩) তিস্তা নদী

 ৪) সাকোয়া নদী

 


Monday, November 17, 2025

সন্দ্বীপের সাথে স্বর্ণদ্বীপের সংযোগ সড়ক তৈরীর কার্যক্রম

সন্দ্বীপের সাথে স্বর্ণদ্বীপের সংযোগ সড়ক তৈরীর কার্যক্রম

সন্দ্বীপের সাথে স্বর্ণদ্বীপ (জাহাজের চর/জাহাইজ্জার চর) -এর সড়ক পথ তৈরীর জন্য কালাপানিয়া-বাটাজোড়া- কাঠগড় সংযোগ সড়ক ও ক্রস ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ । 

যতটুকু জানা গেছে ড্যামের দৈর্ঘ্য ৯২০ ফুট, নিচের প্রস্থ ৪০ ফুট এবং উপরের প্রস্থ ২০ ফুট এর মত হতে পারে।




কালাপানিয়া থেকে নতুন চর এর সংযোগ বাঁধ এর কাজ শুরু
হবে ২০২৫ সালের নভেম্বরের দিকে । তারপর চরের উপর
দিয়ে রাস্তা হয়ে যাবে স্বর্ণদ্বীপ পযন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার । এর মধ্যদিয়ে সন্দ্বীপের পশ্চিম দিকের কিছু হারানো মৌজা
যুক্ত হবে । 

এগুলো হলো বাটাজোড়া , দুবলাপাড় , বাউয়া , চর রহিম , সফিনা নগর । স্বর্ণদ্বীপের পরে দেড় কিলোমিটার জলপথ পার হলেই মূল ভূখণ্ড । অদূর ভবিষ্যতে সেই দেড় কিলোমিটারে হতে পারে সেতু অথবা ক্রসড্যাম । পানি উন্নয়ন বোর্ড সন্দ্বীপ - স্বর্ণদ্বীপ সংযোগ সড়কের জন্য ৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে ।


  



এর ফলে সন্দ্বীপের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের সময় ৩ ঘন্টা বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি সন্দ্বীপের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে ।


উপরন্তু ভূরাজনৈতিকভাবেও এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

রাখতে পারবে । কারণ ফেনী জেলার সাথেই চট্টগ্রাম বন্দরের ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ

পাঁচ জেলার সংযোগ রয়েছে । ফেনী জেলা ও ফেনী নদী অঞ্চল মাত্র ৩০ কিলোমিটার চওড়া । যা দেশের প্রতিরক্ষার জন্য স্পর্শকাতর । এই অংশকে চওড়া করার জন্য ও বিকল্প

সড়ক তৈরীর জন্য এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।


উপরন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বন্যা ফেনীর এই অংশের দূর্বলতাকে তুলে ধরেছিলো । এই দিক বিবেচনা করে সন্দ্বীপের উত্তরাংশে ক্রসড্যাম অথবা সেতু নির্মানের মাধ্যমে সরাসরি উরিরচর হয়ে দেশের মূল ভুখন্ডে সন্দ্বীপের সংযোগ স্হাপন আশু প্রয়োজন ।


তাছাড়া সন্দ্বীপ চ্যানেলে চট্টগ্রামের সাথে সন্দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরী যোগাযোগ চালু হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে । অদূর ভবিষ্যতে সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপর প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মান হলে সন্দ্বীপ হবে বিকল্প ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দু ।



Wednesday, November 12, 2025

সন্দ্বীপের পশ্চিম-দক্ষিণে জেগে ওঠা বিশাল  চর গাঙ্গুরিয়ার চর ( গাঙ্গুড়ার চর, গাংগুরার চর )

সন্দ্বীপের পশ্চিম-দক্ষিণে জেগে ওঠা বিশাল চর গাঙ্গুরিয়ার চর ( গাঙ্গুড়ার চর, গাংগুরার চর )

ভাসানচরের পশ্চিম-দক্ষিণে একটা বিশাল চর জেগে উঠেছে ।  আয়তন প্রায় ৩২ বর্গকিলোমিটার। চরটি এখন গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ। জেলেরা চরটির নাম রেখেছে গাঙ্গুরিয়ার চর। 



চরটি এখন মহিষ পালনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাঙ্গুরিয়ার চরের অবস্থান হচ্ছে হাতিয়ার মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে, ভাসানচর থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে, স্বর্ণদ্বীপ থেকে ২৩/২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সন্দ্বীপ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে।



জেগে ওঠা এই চরটিতে এক সময় জেলেরা বিশ্রাম নিতো। পরবর্তীতে বন বিভাগ নতুন চরটিতে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে গাঙ্গুরিয়ার চরটি সবুজ বন বেষ্টনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 


স্থানীয় বন বিভাগ ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯/২০ বছর পূর্বে ২০০৫ সালের দিকে চরটি জেগে ওঠে। চরটি ক্রমান্বয়ে বিস্তৃতি লাভ করে দক্ষিণ-পূর্ব-উত্তর অর্থাৎ ভাসানচরের পূর্ব-দক্ষিণেও এগুচ্ছে। আগামী এক দশকে চরটির আয়তন কয়েকটি ইউনিয়নের আয়তনের সমান হবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন। আর এটা সম্ভব হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে ঝড়-জ্বলোচ্ছাসের সময় ভাসানচরকে মহাপ্রাচীর হিসেবে রক্ষা করবে গাঙ্গুরিয়ার চর।


https://m.dailyinqilab.com/article/354822/ সম্ভাবনার-নতুন-চর

Saturday, November 25, 2023

ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা বিতর্ক, মহীসোপান নিয়ে বিতর্ক

ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা বিতর্ক, মহীসোপান নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ জাতিসংঘে মহীসোপানের যে দাবি দিয়েছে, সেটির আয়তন ৮ হাজার ৭শ বর্গকিলোমিটার। 

আর বিতর্কিত 'গ্রে এরিয়া' বা ধূসর এলাকার আয়তন ৭২০ বর্গকিলোমিটার।

ভারত আদালতের রায় মেনে তাদের বেইজলাইন সংশোধন করলে এই 'গ্রে এরিয়া' থাকে না।



বঙ্গোপসাগরে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হয় আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে। ২০১১ সালে ইটলসের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়।

সমুদ্রসীমানা নিয়ে দুটি রায়ের পর বাংলাদেশ যখন নতুন বেইজলাইন টেনে মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে, তারপরই বর্তমান সংকটের শুরু।

বাংলাদেশ জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবি প্রথম তুলে ধরে ২০১১ সালে। কিন্তু মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর মহীসোপানের ওই দাবি সংশোধন করে ২০২০ সালে নতুন করে কমিশনে জমা দেয়।

বাংলাদেশ সংশোধিত মহীসোপানের দাবি উপস্থাপনের ছয় মাসের মধ্যেই ভারত জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানায়। ২০২১ সালের ১৬ই এপ্রিল ভারত জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠিটি দিয়ে তুলে ধরে।

ভারত সরকারের বক্তব্য হচ্ছে এটা গ্রে এরিয়ার (ধুসর এলাকা) ভেতরে পড়ে যাচ্ছে এবং ইন্ডিয়ার যে এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন তার ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। তার মানে দু'শো নটিক্যাল মাইলের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মহীসোপানের দাবি নিয়ে বর্তমান বিরোধের মূলে রয়েছে দু'দেশের বেইজলাইন। এ বেইজলাইন নিয়ে দুই দেশেরই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং আপত্তি আছে।

এ বেইজলাইন বা ভিত্তিরেখা ধরেই উপকূল থেকে সমূদ্রের ১২ নটিক্যাল মাইল টেরিটরিয়াল সী, ২শ নটিক্যাল মাইল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং তারপর মহীসোপান পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়।

দুদেশের বেইজলাইন সমুদ্র উপকূল জুড়ে বিভিন্ন অবস্থানে পয়েন্ট আকারে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংশোধিত বেইজলাইনে ৫টি পয়েন্ট আছে আর ভারতের বেইজলাইনের ৮৯টি পয়েন্ট দ্বারা বিভক্ত।

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের পর বাংলাদেশ ২০১৫ সালে বেইজলাইন সংশোধন করে। সেই বেইজলাইনের ভিত্তিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের কমিশনে মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের নতুন বেইজলাইনের ২ ও ৫ নম্বর পয়েন্টের অবস্থান নিয়ে ভারতের আপত্তি।

বাংলাদেশের নতুন বেইজলাইনের ২ ও ৫ নম্বর পয়েন্টে ব্যাপারে ২০১৭ সালের ৩রা আগস্ট ভারত জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি লিখে সুনির্দিষ্ট করে আপত্তি জানায়।

ওই চিঠিতে বলা হয় নতুন বেইজলাইন ধরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা টানলে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে, যেখানে একটি গ্রে এরিয়া বা ধুসর এলাকা চিহ্নিত রয়েছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতের রায়ের পর বাংলাদেশ নতুন করে বেইজলাইন সংশোধন করে। সেই বেইজলাইন ধরে জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবি সংশোধিত আকারে পেশ করে করে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে।

বাংলাদেশের বক্তব্য হলো আদালতের রায় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি মেনেই বাংলাদেশ বেইজলাইন নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশ অভিযোগ করছে যে ভারত আদালতের রায়ের পর তাদের বেইজলাইন সংশোধন করেনি। ভারত বেইজলাইন সংশোধন না করায় গ্রে এরিয়ার সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভারতের বেইজলাইনের ৮৭ ও ৮৯ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি রয়েছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিষয়াবলি ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম।

বিবিসিকে তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুসরণ করে আইন-কানুন মেনেই বাংলাদেশ তাদের বেইজলাইন সংশোধন করেছে এবং মহীসোপানের সংশোধিত দাবি জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছে।

"ভারতের বেইজলাইন যেটা বালাশোর উপকূল থেকে সোজা যে টানা হয়েছে, সেখানে ৮৭ নম্বর পয়েন্ট দশ কিলোমিটার সমুদ্রের ভেতর রয়েছে- যে কারণে গ্রে এরিয়া সৃষ্টি হয়।"

তিনি জানান, "এটা না থাকলেতো গ্রে এরিয়ারই সৃষ্টি হয় না। এবং পয়েন্ট ৮৯ এটা এখনো বাংলাদেশের সমূদ্রসীমার ২.৩ নটিক্যাল মাইল ভেতরে। এটা তারা এখনো সরায় নাই ২০০৯ সাল থেকে। আমরা এটাই বলেছি যে, তোমরা আপত্তি দিয়েছ, তার আগে তোমাদের কাজগুলো ঠিক করার দরকার ছিল।"

খুরশেদ আলম বলছেন, মহীসোপানের বিষয়টি এখন জাতিসংঘের কমিশনই নিস্পত্তি করবে। তবে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনাও অব্যাহত আছে ।

"কূটনৈতিকভাবে কথাবার্তা চলতেছে। আবার ওনারা চিঠি দিচ্ছে আমরাও দিচ্ছি। দেখা যাক এটা কূটনৈতিকভাবে যদি সমাধান হয়, ওনারা পয়েন্ট দুটো উঠিয়ে নেয় ফাইন। কিন্তু মহীসোপানের ব্যাপারে হয়তো কূটনৈতিকভাবে কিছু করার নাই, এটা জাতিসংঘ করবে।"

মহীসোপানের দাবি নিষ্পত্তি নিয়ে ভারতের সাবেক জরিপ কর্মকর্তা বিজন কুমার সাহা বলেন, আপত্তি যে যাই করুক মহীসোপানের সিদ্ধান্ত হবে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে - এটা কেউ চাইলেই পাবে - বিষয়টা এমন নয়।

"দুটো দেশের বাউন্ডারি সেটা স্থল বা জলসীমায় হোক, সেটা একটা ম্যাটার অফ ডিমারকেশন।"

"কিন্তু এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন বা লিগ্যাল কন্টিনেন্টাল শেলফ এটা লজ অফ দা সী'তে পরিস্কারভাবে বলে দেয়া আছে - যে ২শ নটিক্যাল মাইলের পরে কতটুকু মহীসোপান পাওয়া যাবে, কী কী কারণে পাওয়া যাবে, কী করলে পাওয়া যাবে, কোথায় পাওয়া যাবে। নিশ্চয়ই কমিশন এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত দেবেন।"

সাগরের মহীসোপান এলাকায় পানিতে মাছ ধরার অধিকার থাকে সব দেশের। কিন্তু মহীসোপানের মূল গুরুত্ব হলো মাটির নিচের সম্পদের কারণে। মহীসোপান যে দেশের অধিকারে থাকবে, সে দেশই ওই এলাকার মাটির নিচের সম্পদের মালিক হবে। মহীসোপানে তেল গ্যাস অনুসন্ধান এবং অন্য যেকোনো খনিজ পদার্থ উত্তোলন অনুসন্ধানের জন্য এর বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োজন।

Source : bbc.com/bengali/news-58671740

মহীসোপান যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ?

মহীসোপান মূলত একটি দেশের সীমানারই অংশ। ভূখণ্ডের মতো সাগরের এই মহীসোপান নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের ভূখণ্ডের বেসলাইন থেকে লম্বাভাবে প্রথম ২০০ মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইইজেড। এখানে যেমন ওই দেশটি একচেটিয়াভাবে মৎস্য আহরণ করতে পারে। আবার সেখানকার সাগর তলে থাকা সকল খনিজ সম্পদের মালিকও ওই দেশ।

সেই সঙ্গে মহীসোপানের যে বর্ধিত অংশটি থাকে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেমন আরও ১৫০ মাইল, সেটিও আসলে ওই দেশের একটি বর্ধিত অংশ।

এখানে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, বর্ধিত অংশের পানি বাংলাদেশসহ অন্য দেশ মাছ ধরতে যেমন পারবে। ফলে তার মৎস্য আহরণের সীমানা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই মহীসোপান এলাকায় পানির নীচে পাওয়া সব খনিজ সম্পদের মালিক হবে দেশটি। যেমন বাংলাদেশের একচেটিয়া অঞ্চলের ২০০ মাইল আর বর্ধিত মহীসোপানের ১৫০ মাইল- এই সাড়ে তিনশো মাইলে পাওয়া যেকোনো খনিজ সম্পদের মালিক হবে বাংলাদেশ। আবার এই পুরো এলাকায় বাংলাদেশের ট্রলার ইচ্ছেমত মাছও ধরতে পারবে।

মহীসোপান সব দেশের কাছেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণত মহীসোপান এলাকার ভেতরে তেল-গ্যাস বা অন্য খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, তা উত্তোলনে খরচ কম হয়ে থাকে। ফলে সেটি উত্তোলনযোগ্য এবং ব্যবহারযোগ্য হয়ে থাকে। ফলে এই সীমানা অর্থনৈতিকভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই অনেক সময় মহীসোপানের এলাকা নিয়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়।

অ্যাডমিরাল (অব) খুরশীদ আলম বলছেন, ''খনিজ সম্পদের কারণেই মহীসোপানের এতো গুরুত্ব। তেল, গ্যাস, সালফার, মেটালিক মডিউল, কোবাল-সব কিছুর মালিক আপনি।''

যেমন এসব এলাকার মধ্যে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্লক রয়েছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের এক রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছে ।

এর মধ্য দিয়ে নিজস্ব সমুদ্রসীমার বাইরে মহীসোপানে এক বিরাট এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই এলাকায় মৎস্য আহরণ ও সমুদ্রের তলদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাংলাদেশের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন।

"এ রায়ের ফলে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশ অবস্থিত সব ধরণের প্রাণীজ ও অপ্রাণীজ সম্পদের উপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।" বলেছিলেন তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।

বাংলাদেশ ও ভারতের মহীসোপান ইস্যু

২০১১ সালে জাতিসংঘে মহীসোপানের নিজেদের প্রাপ্য দাবি করে আবেদন করে বাংলাদেশ। যদিও ২০২০ সালের অক্টোবরে ওই দাবির বিষয়ে সংশোধনী দেয় ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব) মোঃ খুরশীদ আলম বলছেন, ''মহীসোপান সব দেশেরই একটা অধিকার। সব দেশে ২০০ মাইল পর্যন্ত ইইজেড পাবে, আর সাড়ে তিনশো মাইল পর্যন্ত মহীসোপান পাবে।''

বাংলাদেশ নিজেদের মহীসোপান এলাকা দাবি করে ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ বিষয়ক কমিশনে (সিএলসিএস) আবেদন করেছিল।

মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নির্ধারণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক মামলায় যথাক্রমে ২০১২ এবং ২০১৪ সালে প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশ জয়লাভ করে।

সেই রায়ে মহীসোপানের সীমানা আলাদাভাবে নির্ধারণ করার কারণে ২০২০ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সিএলসিএসে সংশোধনী জমা দেয়।

গত শুক্রবার ওই সীমানার ব্যাপারে আপত্তি দিয়ে ভারত বলছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যে বেসলাইনের ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, সেটির মাধ্যমে ভারতের মহীসোপানের একটি অংশ দাবি করছে বাংলাদেশ। এছাড়া সেখানে বঙ্গোপসাগরে থাকা গ্রে এরিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ কোন তথ্য দেয়নি।

এর আগে ভারত যে বেসলাইনের ভিত্তিতে মহীসোপানের দাবি তুলেছিল, সেটির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ ২০০৯ সালে আপত্তি জানিয়েছে। সেই আপত্তি এখনো রয়েছে।

যদিও বঙ্গোপসাগরের প্রতিবেশী আরেক দেশ মিয়ানমার বাংলাদেশের মহীসোপান দাবি ইস্যুতে কোন আপত্তি তোলেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব) মোঃ খুরশেদ আলম বলছেন, ''ভারতের আপত্তির ব্যাপারে আমি আইনগত জোরালো কোন ভিত্তি দেখছি না। কারণ আমাদের মহীসোপান আদালত থেকে ফয়সালা করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং ভারতের আপত্তির কোন আইনগত ভিত্তি নেই বলেই আমি মনে করি। তারপরেও তাদের আপত্তির বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা জাতিসংঘে জবাব দেবো।''

তিনি বলছেন, আপত্তির যেসব পয়েন্ট ভারত তুলে ধরেছে, তার সঙ্গে মহীসোপানের কোন সম্পর্ক নেই। কারণ পানির বিষয়ে আপত্তির সঙ্গে তো মহীসোপানের বিষয় মেলে না।

এই বিরোধের ব্যাপারে কারা সিদ্ধান্ত দেবে?

বাংলাদেশ ও ভারতের মহীসোপান সংক্রান্ত বিরোধের ব্যাপারে সুপারিশ দেবে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণসংক্রান্ত কমিশন (সিএলসিএস)। দুই দেশের বক্তব্য বিচার বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি তাদের সুপারিশ জানাবে।

সেই সুপারিশের ব্যাপারেও আবার আপত্তি জানানো যাবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেহেতু আদালত সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার বাইরে বাংলাদেশের যাওয়ার সুযোগ নেই।

''কোর্টের রায় যেটা আমরা পেয়েছি, সেটাই আমরা পাবো। সেটার ওপরেই চেয়েছিলাম যে, তাদের (জাতিসংঘের) যে একটা রোল এখানে আছে, সেটাই যেন তারা পূর্ণ করে।'' বলছিলেন মি. আলম।

কোন দেশ মানতে রাজি না হলে তারা পুনর্বিবেচনার পর আবার সিএলসিএসে যেতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত যে সুপারিশ তারা দেবে, সেটা সব দেশকে মানতে হয়, সেটাই নিয়ম, বলছেন অ্যাডমিরাল খুরশীদ আলম।

এখানে আদালতের মতো কোন শুনানি হয় না। তবে সিএলসিএসের যে কমিটি রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশ তথ্য-প্রমাণসহ একটি প্রেজেন্টেশন দিতে পারে।

Source : bbc.com/bengali/news-56792341

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির রায় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ৫০ বর্গ কিলোমিটারের একটি গ্রে এরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। আদালত রায়ে বলেছেন, এ বিষয়টি দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে নেবে। আন্তর্জাতিক আদালত সমতার ভিত্তিতে সমুদ্রসীমা ঠিক করায় এ গ্রে এরিয়ার সৃষ্টি হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, বাংলাদেশের সীমানার ৫০ বর্গ কিমি এরিয়া ভারতের মধ্যে ঢুকে গেছে বা ওভার ল্যাপিং হয়েছে। গ্রে এরিয়ার সমুদ্রের তলদেশের সম্পদের একক মালিকানা বাংলাদেশের। আর সমুদ্রের উপরিভাগের সম্পদের মালিকানা উভয় দেশের।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা বিরোধ-সংক্রান্ত হেগের স্থায়ী আদালত থেকে বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটে। এ নিষ্পত্তি খুবই ন্যায়সংগত এবং বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল। এটা থেকে মনে হয়, আমরা লাভবান হয়েছি। কিন্তু মানচিত্র দেখলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। যা হোক, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ-ভারত দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমুদ্রবিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়। কিন্তু ওই ভারত সমঝোতার বিষয়ে পরে ভারত তার নিজের স্বার্থে আপত্তি জানিয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার মনে হয়, দুই পক্ষ জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখেই এসব নিষ্পত্তি করবে, কিন্তু সেখানে হয়তো উভয় পক্ষই কমনগ্রাউন্ড খুঁজে পায়নি, সে কারণেই জাতিসংঘের কাছে যাওয়া। আমরা যেহেতু পারছি না, জাতিসংঘ সাহায্য করতে পারে। 
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক ড. কেএম আজম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা এখন জাতিসংঘের সিএলসিএস কোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। গ্রে এরিয়া সমুদ্রের মহীসোপানের একটি বিষয়। এ গ্রে এরিয়ায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার রয়েছে। তাই এটা দুই দেশের মধ্যে সমাধান করা একটু ডিফিকাল্ট, এটা ত্রিদেশীয় একটা বিষয়। আর এখানে বাংলাদেশের কিন্তু আলাদা কোনো মহীসোপান নেই। গ্রে এরিয়ায় বাংলাদেশ পানি ছাড়া মাটির অংশটুকুও পাবে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের রায় অনুযায়ী, গ্রে এরিয়ার মাটির নিচের সম্পদের অধিকারও বাংলাদেশের রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে কোর্টের নিষ্পত্তির রায়ে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

shomoyeralo.com/details.php?id=225164


Thursday, April 20, 2023

সন্দ্বীপের সবুজ চর

সন্দ্বীপের সবুজ চর

 সবুজ চর নামেই সবার কাছে পরিচিত এ চরটি। সন্দ্বীপের উত্তরে বামনী নদী ও পশ্চিমে মেঘনা নদীর মোহনাঘেঁষে আমানউলস্না, সন্তোষপুর, দীর্ঘাপাড়-তিনটি ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত এ চর। উপকূলীয় বেড়িবাঁধের পর যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ চর। ছয়টি ঋতুতে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিলেও মূলত শীত ও বর্ষা দুই ঋতুতে সবুজ চর হাজির হয় তার সব সৌন্দর্য নিয়ে।



বর্ষায় নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে জোয়ারের পানিতে পস্নাবিত হয় চর। বিস্তীর্ণ চরজুড়ে তখন চাষ হয় রাজাশাইল ধান। প্রত্যেক জমির আল কেটে বসানো হয় মাছ ধরার চাঁই। জোয়ারের পানির সঙ্গে নদী থেকে উঠে আসে টেংরা, চিড়িং, কোরাল, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ভাটার সময় পানি নেমে গেলে চাঁইয়ের ভেতর আটকা পড়ে মাছগুলো। শত শত চাঁই বসানো থাকে জমিগুলোতে। যেন ধান আর মাছ নিয়ে প্রাকৃতিক সমন্বিত চাষাবাদ। কয়েকটা জমি পরপর মাটি থেকে চার-পাঁচ ফুট উঁচুতে ছাউনি দেয়া মাচার মতো ঘর বানানো থাকে। সেখানেই রাত জেগে মাছ ধরে, চাঁই পাহারা দেয় স্থানীয় লোকজন।

কিছু কিছু জায়গায় দেখা যায় বড় বড় জলাশয়। সেখানে ফুটে থাকে রাশি রাশি শাপলা। শখের বসে শাপলা তোলে গ্রামের মেয়েরা। কেউ খোঁপায় গোঁজে, কেউ বিক্রি করে স্থানীয় বাজারে। জোয়ারের সময় গরু নিয়ে ঘরে ফিরতে দেখা যায় এসব বালিকাদের কাউকে কাউকে।

শীতকালে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিয়ে হাজির হয় সবুজ চর। বর্ষাকালের জল থই থই চরটাকে যেন আর চেনা যায় না তখন। শরতের শুরুতে আকাশে ভেসে বেড়ায় বাউন্ডুলে মেঘ। সবুজ চর থেকে সন্ধ্যার আকাশ দেখার এটাই উপযুক্ত সময়। সূর্য ডোবার পর আকাশের খোলা ক্যানভাসে নানান রঙে ছবি আঁকে প্রকৃতি। আকাশ পরিষ্কার থাকায় সন্দ্বীপের উত্তরে চরের শেষ প্রপ্রন্ত দাঁড়ালে পূর্বদিকে দেখা যায় চট্টগ্রামের পাহাড় আর উত্তরে নোয়াখালী। বেড়িবাঁধের উপরে এসে দাঁড়ালে চরের মাঝখানে বিচ্ছন্ন দ্বীপের মতো ছাড়া ছাড়া কতগুলো বাড়ি চোখে পড়ে। সন্ধ্যা নামলে ওসব বাড়ির ভেতর মিট মিট আলো জ্বলে। একবার মনে হয় তারা, একবার মনে হয় জোনাকি।

হেমন্তে ধান কাটা শেষ হলে বিপুল বিরহ নিয়ে শূন্য পড়ে থাকে মাইলের পর মাইল। এ সময় বিস্তীর্ণ চরজুড়ে কোনো ফসল না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয় ভেড়ার পাল। সারাদিন ঘাস খেয়ে রাখালসহ ওদের ঘরে ফেরার দৃশ্য বলে দেয় কাকে বলে গোধূলি সন্ধ্যা, কাকে বলে গড্ডলিকাপ্রবাহ। ভেড়াপালন স্থানীয় লোকজনের অন্যতম আয়ের উৎস। চরের কোথাও কোথাও দেখা যায় মহিষের পাল। নানান রকম পাখির আনাগোনা বেড়ে যায় এসময়। গুলতি হাতে নিয়ে বের হয় গ্রামের দসু্য ছেলেরা। চরের কিছু কিছু অংশে বেড়িবাঁধের ঢালে চাষ হয় মৌসুমী সবজি। বিকালে বেড়িবাঁধের সারি সারি খেজুর গাছে হাঁড়ি বসিয়ে দেয় গাছিরা। সূর্য লাল আবির ছড়িয়ে ডুব দেয় পশ্চিমের বঙ্গোপসাগরে। শীত জেঁকে উঠলে রসের গন্ধে ম-ম করে চরাচর। শুকনো নাড়া জ্বালিয়ে গল্পে মেতে ওঠে চরের মানুষ। কোথায় কোথাও রান্না হয় রসের পায়েস।

শৌখিন ভ্রমণপিপাসুরা সন্দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসময় পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন নিয়ে ঘুরতে আসেন এখানে। অল্প দামে কিনতে পাওয়া যায় রাজহাঁস। স্কুল-কলেজ থেকে মাইক বাজিয়ে আসে পিকনিক বাস। ছেলেমেয়েদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে চরের প্রত্যেকটি ধূলিকণা, ঘাস।

মাঝে মাঝে অনেক বছর পর সাগরে সাতদিন সাঁতার কেটে একটা গাছের টুকরোকে আকড়ে ধরে কূলে এসে ভেড়ে অপরিচিত এক লোক।মাছে খাবলে খাওয়া শরীর।নাম বলতে পারেনা,ঠিকানা বলতে পারেনা।উৎসুক জনতার ভীড় জমে লোকটাকে ঘিরে।ঘন হয়ে আসে রাত।সে লোকের গল্প বছরের পর বছর ভেসে বেড়ায় সবুজ চরের বাতাসে।খুব নিরিবিলি একা একা কান পেতে থাকলে ফিসফিস সে গল্প শোনা যায় এখনও।

aijaidinbd.com/feature/rong-berong/76759/সন্দ্বীপের-সবুজ-চর 

সাজিদ মোহন
  ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০



Friday, March 4, 2022

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের ১০ম দিন

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের ১০ম দিন

 

আজ ৪ঠা মার্চ ২০২২ ।  ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আজ ১০ তম দিন । ইউক্রেন ক্রমাগত পরাজিত হতে যাচ্ছে । ইউক্রেনের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে রাশিয়া দখল করে ফেলেছে ।

 


রাশিয়ান সৈন্য বাহিনী ইউক্রেনের উত্তর দিকে রাজধানী কিয়েভ  অভিমুখে ইউক্রেনের উত্তর পশ্চিম দিক হতে অগ্রসর হচ্ছে । ইউক্রেন সৈন্যরা যথেষ্ঠ প্রতিরোধ করলেও রাশিয়ান সৈন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে ।  

 

ইউক্রেনের দক্ষিণের সেনা ঘাটি শহর ও শিল্প এলাকা মিকোলাইভ রাশিয়া অধিকার করার দ্বারপ্রান্তে । এই শহর পুরোপুরি রাশিয়া দখল করে নিলে ইউক্রেন অর্থনৈতিকভাবে ও সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হবে ।  

 

ইউক্রেনের দক্ষিণ পশ্চিমস্হ কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা বন্দর শহরে রাশিয়ান নৌ বাহিনী প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে । ওডেসা বন্দর রাশিয়া দখল করে নিলে ইউক্রেন সমুদ্রপথে বিশ্বের সাথে যোগাযোগ পথ ৯৫% হারিয়ে ফেলবে ।

 

দক্ষিণ-পূবের  গুরুত্বপূর্ণ মাইরিয়োপোল বন্দর শহর রাশিয়ান সৈন্যরা যুদ্ধ করে সফলতা লাভ করেছে ।

 

মারিয়োপোল ইউক্রেনের তৃতীয় নৌ বন্দর ।  রাশিয়া দক্ষিণ দিক থেকে ইউক্রেনকে জলপথ হতে বিচ্ছিন্ন করতে চেষ্টা করছে যাতে বিদেশের কোন যুদ্ধ জাহাজ ইউক্রেনকে সমুদ্রপথে সাহায্য করতে না পারে ।

 

ইউক্রেনের খারকভ শহরে যুদ্ধ চলছে ।

রাজধানী কিয়েভের চারপাশে প্রচুর সৈন্য সামন্ত জড়ো করেছে রাশিয়া । রাশিয়া ইউক্রেনকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলেছে ।

 

রাশিয়া যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে । কারণ ইউক্রেন প্রবলভাবে প্রতিরোধ করছে । অপর দিকে রাশিয়া আগ্রাসন চালাচ্ছে । ইউক্রেন একাই মরণপণ লড়াই করে যাচ্ছে । রাশিয়া বিপুল সমরাস্ত্র ও সৈন্য বিসর্জন দিয়েছে ।

 

ইউক্রেনের জনগণ গ্রীক আর্থডক্স খৃস্টান হলেও বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয় জনগন মুসলিম । এরা ইউক্রেনের আদিবাসী সম্প্রদায় । এরা জাতিগতভাবে ক্রিমিয়ান তাতার ও ভল্গা তাতার জনগোষ্ঠীর লোক । এদের ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে তুরস্কে ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মিল রয়েছে ।

 

ইউক্রেনের মুসলিমরাও ইউক্রেনের জনগন হওয়ায় যুদ্ধের শুরু হতে মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরোদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে । ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মুসলিম । সংখ্যাটি কম নয় ।

 

ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে এক সময় মুসলিমরা ক্রিমিয়া খানাত নামক মুসলিম দেশ কায়েম করেছিলো । রাশিয়ান সম্রাজ্য সপ্তদশ শতকে এই দেশ দখল করে নেয় । পরে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশ হয় । কয়েক বছর আগে রাশিয়া আবার ইউক্রেন হতে ক্রিমিয়া দখল করে নেন ।