মুহুরীর চর হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড । টি ফেনী জেলার
পরশুরাম উপজেলার বিলোনীয়া ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে মুহুরী নদীতে
জেগে ওঠা চর ।
বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের আড়াই কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত করা যায়নি। ভারত এর ৬৬
একর জমি জবর দখলের মাধ্যমে ভোগ করে আসছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ জরিপ
অধিদফতর-এ সীমানা চিহ্নিত করতে জরিপ পরিচালনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
গত প্রায় দুই দশকে এই চর নিয়ে অসংখ্যবার দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ
হয়েছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক। বাংলাদেশের জমির মালিকদের জমি-সংশ্লিষ্ট
দলিলপত্র থাকলেও বিএসএফ-এর বাধার কারণে এসব জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
অপরদিকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মুহুরী নদীতে ভারত স্পার ও গ্রোয়েন নির্মাণ করেছে।
এর মাধ্যমে নদীর গতিধারাকে ভারত ক্রমান্বয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের
অভ্যন্তরে সুকৌশলে বিলোনীয়ার পাশে নিজ কালিকাপুর গ্রামের মুহুরী নদীর বাঁকে চরের
অংশটি মূল চরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণে ক্রমাগত উত্তর অংশে ভারতের দিকে চরের
সৃষ্টি হয়ে নদীর মোহনা বাংলাদেশের গভীরে ঢুকে যাচ্ছে।
এছাড়া মুহুরী নদীর পাশে ভারত সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ৪০ ফুট
প্রশস্ত নতুন সড়ক তৈরির কাজে সম্পন্ন করেছে। কৌশলে মুহুরীর চরের অধিকাংশ এলাকা
ও তৎসংলগ্ন ভূভাগ নিজের এলাকাভুক্ত করে নিচ্ছে ভারত। ফলে পরশুরামের বিলোনীয়া
ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। মুহুরির চর নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই দেশের
কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করলেও সমাধান আসেনি। বাংলাদেশের কাছে স্থল সীমান্ত
চুক্তির আওতায় মুহুরির চর হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জেগে ওঠা মুহুরীর চরের আয়তন ৯২ দশমিক ১৪ একর। এ চর নিয়ে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উভয় দেশের ভূমি
মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে বাংলাদেশ
পায় ৭১ দশমিক ৯৪ একর এবং ভারত পায় ২০ দশমিক ২০ একর। সর্বশেষ গত ২০১৪
সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় উভয় দেশের জরিপ বিভাগ জরিপ
কার্যক্রম পরিচালনা করে।



