Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Thursday, June 25, 2026

মুহুরীর চর

মুহুরীর চর

 মুহুরীর চর হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি  বিতর্কিত ভূখণ্ড । টি ফেনী জেলার

 পরশুরাম উপজেলার বিলোনীয়া ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে মুহুরী নদীতে

 জেগে ওঠা চর 



বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের আড়াই কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত করা যায়নি। ভারত এর ৬৬

 একর জমি জবর দখলের মাধ্যমে ভোগ করে আসছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ জরিপ

 অধিদফতর-এ সীমানা চিহ্নিত করতে জরিপ পরিচালনা করলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। 

গত প্রায় দুই দশকে এই চর নিয়ে অসংখ্যবার দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ

 হয়েছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অনেক। বাংলাদেশের জমির মালিকদের জমি-সংশ্লিষ্ট

 দলিলপত্র থাকলেও বিএসএফ-এর বাধার কারণে এসব জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।

 অপরদিকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মুহুরী নদীতে ভারত স্পার ও গ্রোয়েন নির্মাণ করেছে।



 এর মাধ্যমে নদীর গতিধারাকে ভারত ক্রমান্বয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের

 অভ্যন্তরে সুকৌশলে বিলোনীয়ার পাশে নিজ কালিকাপুর গ্রামের মুহুরী নদীর বাঁকে চরের

 অংশটি মূল চরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণে ক্রমাগত উত্তর অংশে ভারতের দিকে চরের

 সৃষ্টি হয়ে নদীর মোহনা বাংলাদেশের গভীরে ঢুকে যাচ্ছে। 




এছাড়া মুহুরী নদীর পাশে ভারত সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থেকে ৪০ ফুট

 প্রশস্ত নতুন সড়ক তৈরির কাজে সম্পন্ন করেছে। কৌশলে মুহুরীর চরের অধিকাংশ এলাকা

 ও তৎসংলগ্ন ভূভাগ নিজের এলাকাভুক্ত করে নিচ্ছে ভারত। ফলে পরশুরামের বিলোনীয়া

 ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। মুহুরির চর নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই দেশের

 কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করলেও সমাধান আসেনি। বাংলাদেশের কাছে স্থল সীমান্ত

 চুক্তির আওতায় মুহুরির চর হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। 




 উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জেগে ওঠা মুহুরীর চরের আয়তন ৯২ দশমিক ১৪      একর। এ চর নিয়ে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উভয় দেশের ভূমি

 মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে বাংলাদেশ

 পায় ৭১ দশমিক ৯৪ একর এবং ভারত পায় ২০ দশমিক ২০ একর। সর্বশেষ গত ২০১৪

 সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় উভয় দেশের জরিপ বিভাগ জরিপ

 কার্যক্রম পরিচালনা করে।





Monday, June 22, 2026

৫৪৪ দিন স্হায়ী ছিল বাংলাদেশে করোনা কাল

৫৪৪ দিন স্হায়ী ছিল বাংলাদেশে করোনা কাল

 ১৭ই মার্চ ২০২০ করোনা কাল শুরু । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ স্কুল খোলে । ৫৪৪ দিন সব কাজ প্রায় বন্ধ ছিল ।



বাংলাদেশে সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল ২০২০ সালের ১৬ই মার্চ।

তার পরদিন ১৭ই মার্চ ছিল জাতীয় ছুটি। সেদিন মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী আয়োজনের প্রধান অনুষ্ঠানমালাও হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।



১৮ই এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি পরবর্তীতে যে পাবলিক পরীক্ষাগুলো হওয়ার কথা ছিল সেগুলোও অনুষ্ঠিত হয়নি।


শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের উপর ভিত্তি করে একটি ফলাফল প্রকাশ করা হয় যাকে ব্যাপকভাবে 'অটোপাশ' বলে অভিহিত করা হয়েছে পরবর্তী দিনগুলোতে।




এর পর গত দেড় বছরেরও বেশি সময়ে দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় শ্রেণীকক্ষে কোন পাঠদান হয়নি।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের প্রকাশিত এক নিবন্ধ থেকে জানা যায়, গত মার্চ মাস পর্যন্ত টানা এক বছর পৃথিবীজুড়ে প্রায় সতের কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেএর মধ্যে প্রায় দশ কোটি শিশুই ছিল ১৪টি দেশের, যেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি।


বিশ্বব্যাংকের এক হিসেব থেকে জানা যায়, ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল চার কোটির কিছু বেশি।


করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পৃথিবীজুড়েই ব্যহত হলেও টানা দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নজির খুব কম দেশেই আছে।

যে সব শর্তে স্কুল খুলেছে :

গত ৩রা সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের সব স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার ঘোষণা দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে মূলত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসহ সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খুলে দেয়া হচ্ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ১৫ই অক্টোবর থেকে খুলে দেয়ার কথা রয়েছে।


তবে, স্কুল খোলার ১৯ দফা শর্ত জুড়ে দেয় সরকার। এসব শর্ত ঠিক মতো পালিত হচ্ছে কিনা বা স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কেমন হয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কর্তৃপক্ষ।


এসব শর্ত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানের সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাইকে সবসময় মাস্ক পরতে হবে। https://www.bbc.com/bengali/news-58454777


শিক্ষার্থীদের তিন ফুট শারীরিক দূরত্বে রাখা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার কথা আছে।


নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণি কক্ষে ৫ ফুটের চেয়ে ছোট আকারের বেঞ্চিতে একজন ও এর চেয়ে বড় আকারের বেঞ্চিতে দুজন শিক্ষার্থী বসানো যাবে।


কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দিকে পাবলিক পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাই বেশি আসবে। বাকিদের স্কুলে আসার জন্য রোটেশন সিস্টেম অর্থাৎ আজ যারা আসবে তারা কাল আসবে না-এই নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে


স্কুলগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত করা ছাড়াও স্কুলে কোভিড সংক্রান্ত ব্যবস্থা অর্থাৎ হাত ধোয়া, তাপমাত্রা পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করারও শর্ত রয়েছে।

এর আগে গত ২রা সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঘোষণা করেছিলেন যে, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোয় আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে ক্লাস শুরু হবে।


তবে আজ থেকে স্কুল-কলেজ খোলা থাকার কথা থাকলেও প্রায় এক হাজারের মতো কিন্ডারগার্টেন ও স্কুল খুলবে না।

এসব স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, মূলত আর্থিক অস্বচ্ছলতা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সংকটের কারণেই স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।


এদিকে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং কলেজ ঐক্য পরিষদ দাবি করছে যে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নানা সংকটের মুখে ১০ হাজারের মত স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।

 

৫৪৪ দিন পর শ্রেণিকক্ষে ফিরলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ।

Sunday, June 21, 2026

দহগ্রাম ইউনিয়ন

দহগ্রাম ইউনিয়ন

দহগ্রাম ইউনিয়ন হলো লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল । এটি পাটগ্রাম উপজেলা হতে মাত্র ৫৮৪ ফুট দূরে অবস্হিত । 



দহগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দিকে তিস্তা নদী ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা এবং বাকি তিন দিকে ভারতীয় ভূখন্ড ।

দহগ্রাম ইউনিয়নে তিনবিঘা করিডোর ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হয়। তিন বিঘা করিডোরের দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ও প্রস্হ ৭৯  ফুট। এটি ভারতের কোচবিহার জেলা ও বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে অবস্হিত । 



আয়তন: প্রায় ২২.৬৮ বর্গকিলোমিটার।

জনসংখ্যা: ২০২৫ হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২০,০০০ জন।

ইতিহাস: ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা এলাকা নিয়ে স্বতন্ত্র এই ইউনিয়নটি গঠিত হয়। দীর্ঘ সময় স্হলপথের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সাথে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ১৯৯২ সালে তিনবিঘা করিডোর চালুর মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্মুক্ত হয়।


নদী:

দহগ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী । দহগ্রামের প্রায় মাঝ বুক দিয়ে বয়ে গেছে সাকোয়া নদী।

দর্শণীয় স্হান:

১) তিনবিঘা কড়িডোর

২) আঙ্গোরপোতা জিরো পয়েন্ট

 ) তিস্তা নদী

 ৪) সাকোয়া নদী

 


Saturday, January 21, 2023

বৌদ্ধ আমলে শিক্ষা ব্যবস্হা

বৌদ্ধ আমলে শিক্ষা ব্যবস্হা

 


হিউয়েন সাঙ ছিলেন বিখ্যাত চীনের পর্যটক তিনি উত্তর ভারতের সম্রাট হর্ষবর্ধন (৬০৬ - ৬৪৭) খ্রিষ্টপূর্ব এর রাজত্বকালে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের কোন এক সময়ে তিনি ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছিলেন,এবং ৬৩৮খ্রিস্টাব্দ তিনি বাংলায় প্রবেশ করেন। তখন এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্ম প্রভাবশালী ছিল ।

বৌদ্ধ আমলে শিক্ষা ব্যবস্হা :

হিউয়েন সাঙের বিবরণ থেকে বৌদ্ধ যুগের প্রাথমিক শিক্ষার পাঠক্রম থেকে জানা যায় যে শিশু শিক্ষার্থী সর্বপ্রথম পরিচিত হতোসিদ্ধম’-এর সঙ্গে অথবা দ্বাদশ অধ্যায়যুক্ত প্রাথমিক পুস্তকের সঙ্গে।

 

শিশুরা সাত বছর বয়সের আগেই বারো অধ্যায়ের সিদ্ধ-বাস্তু পাঠ করত।

ওই পুস্তকে সংস্কৃত বর্ণমালা স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের যৌথ বিন্যাস ছিল। বলা হয়ে থাকে যে সিদ্ধম, সিদ্ধবাস্তু বা সিদ্ধবস্তু মহেশ্বর প্রথম শিখিয়েছিলেন এবং শিশুরা এটা ছয় মাসে মুখস্থ করে ছয় বছর বয়সে শিশুরা সিদ্ধ-বাস্তু মুখস্থ করত। সিদ্ধবাস্তু ব্যাকরণের প্রথম অধ্যায় মাত্র।

সাত বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ করার পর তা শেষ হলে উচ্চ শিক্ষাভিলাষী কিশোরেরা ১৬ বছর বয়সের পর পঞ্চবিদ্যা শিখত।

সাধারণত ১৬ বছরের কম বয়সীরা এই শিক্ষা গ্রহণের অনুমতি লাভ করত নাকারণ, এই শিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজগৃহ ছেড়ে দূরবর্তী স্থানে চলে যেতে হতো। হিউয়েন সাঙের মতে, এই পঞ্চবিদ্যা হচ্ছে শব্দবিদ্যা, শিল্পস্থানবিদ্যা, চিকিত্সাবিদ্যা, হেতুবিদ্যা অধ্যাত্মবিদ্যা।

 

সিদ্ধ-বাস্তুতে এসব অক্ষরযোগে ৩০০ শ্লোক থাকত, যা মুখস্থ করতে হতো। চারটি পদে তৈরি একটি শ্লোকে ৩২টি শব্দাংশ থাকত। এরপর আট বছর বয়সে আট মাস ধরে ব্যাকরণের মূল সূত্রগুলো মুখস্থ করতে হতো।

সকাল থেকে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত টোলে পাঠদান তারপর স্নান-আহার। বিকেলে আবার ভ্রমণের সময় গঙ্গাতীরে শিষ্যসঙ্গে মণ্ডলী করে বসে পাঠাদির আলোচনাএভাবেই দিবা অতিবাহিত

 

মোঘল আমলে শিক্ষা ব্যবস্হা :

মুসলিমদের আগমনে ভারতের শিক্ষাধারা আবার ভিন্ন মাত্রা পেতে থাকে।

মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রমের মধ্যে ছিল ব্যাকরণ, বাগ্মিতা, তর্কবিদ্যা, ব্রহ্মবিদ্যা, অধিবিদ্যা, সাহিত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, ঔষধশাস্ত্র এবং ব্যবহারশাস্ত্র। মোগল যুগের শেষ ভাগে পাঠক্রমে যুক্তিভিত্তিক বিজ্ঞানগুলোর প্রাধান্য দেখা যায়। সম্রাট আকবর-সৃষ্ট ভাষা শিক্ষার পদ্ধতিটিও উল্লেখযোগ্য।

পড়তে শেখার পরে লিখতে শেখার ফারসি পদ্ধতিটির পরিবর্তে লিখতে শেখার সঙ্গে সঙ্গে পড়তে শেখার পদ্ধতিটিকেই তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন। সময় বিভাজনও ঘোষিত হয়েছিল। যথা উচ্চারণসহ অক্ষর শেখার জন্য দুদিন, অক্ষরগুলো সাজানোর জন্য এক সপ্তাহ। তারপর অক্ষর সংযুক্ত করে ধর্মীয় নীতিশিক্ষাসংবলিত ছোট গদ্য পদ্য পড়া এবং শেষে নিজে নিজে পড়তে শেখা। আকবর চারটি দৈনিক কার্যসূচি ঘোষণা করেছিলেনঅক্ষর শেখা, অক্ষর সাজানো, নতুন পড়া এবং পুরোনো পাঠের পুনরাবৃত্তি।

 

মুসলিম সমাজের প্রতিটি শিশু চার বছর চার মাস চার দিন বয়সে উপনীত হলে তাকে সুন্দর পোশাকে সাজিয়ে পরিবারের সব সদস্য অন্য স্বজনদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক জ্ঞান প্রদানের সূচনা করা হতো। শিশুটিকে পবিত্র কোরআনের কিছু অংশ পাঠ করানোর চেষ্টা করা হতোশিশুটি পড়তে না চাইলে তাকে অন্তত বিসমিল্লাহউচ্চারণ করানোর প্রথা ছিল।

 

প্রাথমিক অবস্থায় জোর দেওয়া হতো বিশুদ্ধ উচ্চারণের দিকে। পরবর্তীকালে ধারাবাহিকভাবে পান্দনামাহ, আন্দনামাহ, গুলিস্তান, বোস্তান ইত্যাদি ফারসি শিক্ষার গ্রন্থ পাঠ শিক্ষার্থীর জন্য আবশ্যক ছিল।

 

তা ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ব্যাপার ফারসি ভাষায় প্রকাশ করতে শেখানো হতো।

পাশাপাশি ছাত্রদের ইউসুফ-জোলেখা, লাইলি-মজনুর কাহিনি, সিকান্দারনামাহ, আলেকজান্ডারের বিজয়ের ইতিহাস ইত্যাদি অধ্যয়ন করানো হতো।

প্রাথমিক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী প্রথমে ফারসি নাম, পরে আরবি এবং তারপর অন্যান্য ভাষায় নাম লেখার অভ্যাস করত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রদের ফারসি-আরবির পাশাপাশি বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রচলন ছিল। বাংলা বহু মুসলমানের মাতৃভাষা ছিল বলে বাঙালি মুসলমানরা মাতৃভাষাকে অবহেলা করতে পারেনি।

বহিরাগত মুসলমানরাও বাংলা ভাষা এবং দেশকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।