Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Monday, June 28, 2021

বারান্দা ও চিন্তার জগৎ

বারান্দা ও চিন্তার জগৎ

বারান্দায় সকালে দৈনিক পত্রিকা পড়া হোক, কিংবা বিকালে চা পান করাই হোক – বারান্দাটা হলো একটা গুরুত্বপূর্ণ স্হান ।
কারণ বারান্দায় অনেক কিছুই চোখে পরে যায় যেগুলো মনের জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে । মন চট করে নিজের শূন্যতায় একটা নতুন ছবি একে নেয় ।

Friday, June 25, 2021

বই লিখে আয়

বই লিখে আয়

একটি তথ্যভিত্তিক বই এর প্রকাশনায় যা খরচ হয় সাধারণত তার সমপরিমাণ লভ্যাংশ যোগ করে বিক্রয় করা হয়। ঢাকায় বই এর অনেক কাটতি রয়েছে এমন ৫০ এর অধিক দোকান খোঁজে পাওয়া যাবে (নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, শাহবাগ, পল্টন, গ্রিন রোড, ফার্মগেট, মৌচাক, মালিবাগ, উত্তরা, মিরপুর ১০, কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী, যাত্রাবাড়িসহ আরোও অনেক স্থানে একাধিক ভালো পরিমাণ বই বিক্রয়কারি ফুটপাতের বই বিক্রেতাদের প্রত্যেকে এককভাবে মাসে আপনার ১০টি বই বিক্রয় করে দিতে পারলে আপনার মাসিক আসবে ১০ টাকা করে হলেও ১০x১০x৫০=৫০,০০০ টাকা। দেশের সকল জেলা শহরের লাইব্রেরিসমূহ, রেলওয়ে স্টেশনের বই এর দোকানসমূহের কথা বাদই রাখলাম।
এবার আসুন প্রথম কথায়- বই লেখার সময় পাবেন কই??? ১ ঘন্টা সময় আপনার আগ্রহের বিষয়ের তথ্যানুসন্ধানে # গুগল # পাবলিক লাইব্রেরি # পুরনো পত্রিকা # সে বিষয়ের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সাথে সাক্ষাৎ # লেখা গোছানো- এ কাজগুলো করলে প্রতি তিন মাসে ৯০ ঘন্টা সময়ে কি একটি পছন্দের বিষয়ের অনেক তথ্যপূর্ণ একটি বই লেখা হয়ে উঠবে না? আরেকটা সহজ হিসেব : ৮০ পৃষ্ঠার বই লিখবেন যাতে প্রতি পৃষ্ঠায় ৩২০ শব্দ থাকলে মোট শব্দ হবে বইটাতে ২৫ হাজার ৬ শত । ২৫০ শব্দ প্রতি দিন লিখে বইটা ১০০ দিনে লিখে শেষ করতে পারবেন । ৫ বছরে আপনার ১০টি বই প্রকাশিত হলে আর তা থেকে মাসিক ৫ হাজার করে টাকা এলে আপনি কিন্তু মাসিক আয় করবেন ৫০ হাজার টাকা। আর লেখক হিসেবে সুনাম বলে কিছু তো রেখে গেলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে । যা অন্য অনেক পূর্ণ সময় পেশাতেও সম্ভব না। ভাল একটা অনুপ্রেরণামূলক বই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে কয়েক শতক । যত দিন আপনার বইয়ের আবেদন থাকবে । বিষয়ের আবেদন থাকবে ।
বই প্রকাশের খরচ

বই প্রকাশের খরচ

মুদ্রণ ও প্রকাশনা জগত্ সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই তাদেরকে এ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা দেওয়াই এই লেখার উদ্দেশ্য।
একটি বই প্রকাশ করতে হলে যথাক্রমে এই কাজগুলো করতে হয় : 
১.কম্পোজ 
২.প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনা 
৩.অলঙ্করণ ও প্রচ্ছদ ডিজাইন মেকআপ 
৪.পেস্টিং অথবা কম্পিউটারে ফর্মা সেটিং 
৫.ট্রেসিং ও পজেটিভ 
৬.প্রচ্ছদের পজেটিভ
৭.প্লেট তৈরি 
৮.ইনার ও প্রচ্ছদের জন্য কাগজ 
৯.ছাপা 
১০.লেমিনেশন 
১১.বাঁধাই। 
১২. অন্যান্য 

ফর্মা কাকে বলে :

বাজারের প্রচলিত বইয়ের সাইজ হয় সাড়ে আট বাই সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি (প্রায়) ।  এই বই প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় ডিমাই কাগজ । একটি 
ডিমাই কাগজের সাইজ হয় ২৩ ইঞ্চি–১৮ ইঞ্চি । 


এর চেয়ে বড় সাইজের বইয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ক্রাউন কাগজ । ক্রাউন কাগজের সাইজ হয় ২০ ইঞ্চি–১৫ ইঞ্চি । 

একটি ডিমাই (২৩ ইঞ্চি–১৮ ইঞ্চি) বা ক্রাউন (২০ ইঞ্চি–১৫ ইঞ্চি) কাগজ মানেই এক ফর্মা। 

সাড়ে আট বাই সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি (প্রায়) সাইজের বইয়ে ১৬ পৃষ্ঠায় এক ফর্মা হয় ।

আর বড় সাইজের বইয়ে ৮ পৃষ্ঠায় এক ফর্মা। 

১৬ পৃষ্ঠায় ফর্মার বই করতে হলে ডাবল ডিমাই কাগজ এবং ৮ পৃষ্ঠার বইয়ে ডাবল ক্রাউন কাগজ ব্যবহার করা ভালো। 

এই সাইজ দুটো হল কমন সাইজ। 

আমাদের দেশের এবং বিদেশের প্রকাশকরা অবশ্য এর বাইরেও বিভিন্ন সাইজের বই বের করে। আমাদের দেশের মার্কেটে সাধারণত ডাবল ডিমাই এবং ডাবল ক্রাউন সাইজের কাগজ বেশি পাওয়া যায়। সেদিক দিয়ে একটা ডাবল কাগজের দুই দিক ছাপা মানে দুই ফর্মা। তার মানে একটা দশ ফর্মার বই ছাপতে আপনার দরকার হবে পাঁচটি ডাবল ডিমাই বা ডাবল ক্রাউন কাগজ। 

এভাবে ৫০০ বই করতে কতটি কাগজ দরকার তা আপনি সহজেই বের করতে পারবেন। 
এখন চটজলদি বের করে ফেলুন আপনার বইটি কয় ফর্মার হবে এবং কত শিট কাগজ আপনার দরকার। যত শিট কাগজ দরকার তাকে ৫০০ দিয়ে ভাগ করলেই আপনার রিমের হিসাবটি বের হয়ে আসবে। অর্থাত্ ৫০০ শিট=১ রিম। 

মনে রাখবেন, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিংয়ের কয়েকটি পর্যায়ে যেহেতু অনেক কাগজ নষ্ট হয় তাই ৫০০ বই পেতে হলে আপনার কমপক্ষে আরও ৪০-৫০টি বইয়ের ম্যাটেরিয়াল বেশি দিতে হবে। 

বর্তমানে (২০২০ সালের হিসেব অনুযায়ী) বাজারে ৮০ গ্রাম ডাবল ডিমাই বসুন্ধরা কাগজের মূল্য ২০০০ টাকা/রিম (প্রায়)। ডাবল ক্রাউন ১৪০০ টাকা/রিম (প্রায়)। 

এর চেয়ে বেশি এবং কম দামের কাগজ বাজারে আছে। 

ডিসেম্বরের দিকে কাগজের দাম সাধারণত বৃদ্ধি পায়। কারণ বই মেলার জন্য বই ছাপানোর চাহিদা বেড়ে যায় । এজন্য এপ্রিল-মে-জুন মাসের দিকে প্রথম বইটা ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত । কারণ তখন কাগজ ও অন্যান্য জিনিসের দাম কম থাকে । 

সাধারণ মানের বইয়ে ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম কাগজ ব্যবহার হয়। গ্রাম হচ্ছে কাগজের পুরুত্বের হিসাব। 

প্লেট কী : 
প্লেট হচ্ছে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি একটি মুদ্রণ অনুষঙ্গ। আপনার বইটি যদি ডাবল ডিমাই মেশিনে ছাপতে চান তবে বইটি যত ফর্মার হবে ততটি প্লেটের দরকার হবে। 

প্রতিটি প্লেটের মেকিং চার্জসহ দাম পড়বে ৩০০ টাকার মতো। তবে সময়ভেদে গত বছর ৬০০ টাকা পর্যনন্ত দাম ওঠে। প্লেট করার আগে আপনার লেখাগুলোকে ট্রেসিং বা পজেটিভ আকারে বের করতে হবে। 

বইয়ের মেকআপ করা থাকলে প্রতিটি ট্রেসিং নিতে খরচ পড়বে ১৫ টাকা। এক ফর্মায় ৮টি ট্রেসিং লাগে। আউটপুট নিতে হলে প্রতি বর্গইঞ্চি/প্রতি কালারের জন্য দরকার হবে ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।

পজিটিভ করতে হলে ফর্মা সেটিং আগে করে নিতে হবে। তবে বাংলা পজেটিভ করতে ফন্টের সমস্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

কভার সাধারণত ছাপা হয় ডিমাই মেশিনে। প্রতিটি ডিমাই প্লেটের জন্য খরচ পড়বে ১৫০ টাকার মতো। 

উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি কালারের জন্য একটি প্লেট ব্যবহার করতে হবে। তার মানে আপনার বইটির ভেতরের অংশ যদি এক কালারে ছাপা হয়,তবে তার জন্য প্রতি ফর্মায় একটি প্লেট ।

যদি দুই কালারে ছাপা হয় তাহলে প্রতি ফর্মার জন্য দুটি প্লেট । 

আর যদি চার কালারে ছাপা হয়, তবে প্রতি ফর্মার জন্য চারটি প্লেট দরকার হবে। 

বইয়ের প্রচ্ছদ সাধারণত চার কালারে ছাপা হয়, তাই এর জন্য চারটি ডিমাই সাইজের প্লেট দরকার হবে। 

প্রচ্ছদ : 
বই বের করতে হলে প্রচ্ছদের দিকে বিশেষ খেয়াল দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রচ্ছদশিল্পী থেকে শুরু করে সব কাজেই প্রফেশনালদের ব্যবহার করতে হবে।
 
মনে রাখা উচিত, প্রিন্টিং টেকনোলজি বেশ জটিল। তাই এ কাজে যে-ই জড়িত হবে সে যেন প্রিন্টিংয়ের এ টু জেড অবগত থাকে। আর বইয়ের মূল আকর্ষণই হচ্ছে প্রচ্ছদ । বড় বড় আর্টিস্টরা একটি প্রচ্ছদের জন্য বিভিন্ন রকম পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। 

তবে প্রচলিত মানের একজন প্রচ্ছদশিল্পীর একটি কাজের পারিশ্রমিক আড়াই হাজার টাকার মতো। ইলাস্ট্রেশনের খরচ নির্ভর করে ভেতরে কী পরিমাণ কাজ থাকবে তার ওপর। 

প্রুফ রিডিং এবং সম্পাদনা : 
বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্পাদনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের দেশে এই পেশায় যোগ্য লোক নেই বললেই চলে। তবু আপনার প্রকাশনাটি মানসম্পন্ন করতে চাইলে একজন যোগ্য সম্পাদক খুঁজে বের করা উচিত। 

সাধারণ মানের লেখকরা ধারণাই করতে পারেন না তার লেখাটিতে কত ধরনের খুঁত থেকে যায়। একজন ভালো সম্পাদক সেগুলো দূর করতে পারেন। তবে হতাশার কথা এই যে, আমাদের দেশে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রায় কারওই সম্পাদনার ওপর কোনো বাজেট থাকে না। 

তবে প্রুফ রিডাররা আছেন। তারা টুকটাক ভুলভাল যে ধরেন তাতেও বইয়ের মান কিছুটা বজায় থাকে। মনে রাখা দরকার, আপনি যা জানেন তার মধ্যে কতটুকু ত্রুটি আছে সে ব্যাপারে আপনার মোটেই ধারণা নেই। 

যদি থাকত তবে আপনি ভুল লিখতেন না। বই প্রকাশের পরে তাতে যে কোনো ধরনের ভুল থাকাটা কতটা হাস্যকর তারা মোটেই জানেন না যারা ব্যাপারটাকে উপেক্ষা করেন। 

কয়েকদিন আগে এক বইমেলায় একটি বইয়ের নাম দেখলাম, ‘লেলিন….’। বুঝতেই পারছেন যারা লেনিনের নামটি ঠিকমতো জানেন না, তারা লেনিন সম্পর্কে কী বই বের করবেন। 

আর একজন বিজ্ঞ পাঠক যখন বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের ভুল দেখবেন তখন ওই বই হাতে নিয়েও দেখবেন না। তাই এই ব্যাপারটিতেও আপনাকে নজর দিতে হবে। 

এবারে আমরা একটা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য হিসাব করব। এই হিসাব চূড়ান্ত কোনো হিসাব নয়। 

এর চেয়ে কম অথবা বেশি বাজেটেও এ ধরনের একটা বই প্রকাশ সম্ভব হতে পারে। এটা নির্ভর করে আপনি কতটা কোয়ালিটি মেইনটেইন করবেন তার ওপর। 


একটা বই বের করার জন্য মোট কত টাকা লাগবে তার নমুনা  হিসাব: 

বইয়ের সাইজ : সাড়ে আট বাই সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি (প্রায়) । 
বইয়ের পৃষ্ঠা : ৫ ফর্মা (৮০ পৃষ্ঠা) 
কাগজ : ৮০ গ্রাম বসুন্ধরা ভেতরের ছাপা এক কালার, 
কভার চার কালার, 
লেমিনেশন ও বোর্ড বাঁধাই 
সংখ্যা : ৫০০ কপি 

 ১. কম্পোজ ও ইলাস্ট্রেশন
( লেখক নিজে কম্পিউটারে কম্পোজ করবে বলে খরচ কম হলো )                                       .............................. ১০০০ 

২.প্রুফ রিডিং ………………….......     ২০০০ 

৩.প্রচ্ছদ ডিজাইন …...............................২৫০০ 

৪.পেস্টিং …………………….................  ৫০০ 

৫.মেকআপ ও ট্রেসিং ………….............. ২০০০ 

৬.প্রচ্ছদের পজেটিভ ………………........  ৫০০ 

৭.ডাবল ডিমাই প্লেট ৫টি …....................   ১৫০০ 
ডিমাই প্লেট ৪টা ………………..............     ৬০০ 

৮.কাগজ ২ রিম ১৫ দিস্তা ….................... ৫৫০০

(২০২০ সালের হিসেব অনুযায়ী) বাজারে 
৮০ গ্রাম ডাবল ডিমাই বসুন্ধরা কাগজের 
মূল্য ২০০০ টাকা/রিম (প্রায়)।

আর্টপেপার ১২০ গ্রাম ৮ দিস্তা ..................১৫০০ 
৭০ গ্রাম জ্যাকেট পেপার ৪ দিস্তা.................৪০০ 

পোস্তানির কাগজ ………………............... ৯০০ 


 ৯.ছাপা ৫ প্লেট ………………….........     ২০০০ 

 প্রচ্ছদ ছাপা ………………….............      ১৬০০ 

 পোস্তানি প্রিন্ট …………………...............  ৫০০ 

 ১০.লেমিনেশন …………………….......     ৭০০ 

 ১১.বাঁধাই ……………….......................... ৭৫০০ 

 ১২.অন্যান্য - (যাতায়াত ও বিপনন) …… ৫০০০ 

সর্বমোট (২০২০ সালের হিসেবে অনুযায়ী) - প্রায় ৩৫ হাজার টাকা । 

বিষয়টির প্রতি অনেকের আগ্রহের কারণে এই পোস্টটি দেওয়া হল। এই নমুনা হিসাবের সাথে আপনার বইয়ের সাইজ হিসাব করে বের করে নিন আপনার বইটি ছাপাতে কত টাকা খরচ হতে পারে। 

এ ব্যাপারে যে কোনো প্রশ্ন থাকলে এই পোস্টে আলাপ করতে পারেন। সবাইকে শুভেচ্ছা।

Monday, November 30, 2020

কিভাবে বই বিবরণী লিখতে হয়?

কিভাবে বই বিবরণী লিখতে হয়?

বই সমালোচনা বা বুক রিভিউ করার চাইতে বই বিবরণী লেখার কাজটি তুলনামূলকভাবে একটু সহজ। গ্রন্থালোচনায় আলোচক তার বিশ্লেষণী চিন্তা সামর্থ প্রয়োগ করেন; কিন্তু বই বিবরণীতে আলোচককে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করতে হয়। বইয়ের ধরণ বা বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে বই বিবরণী বিভিন্নরকম হতে পারে।
বই বিবরণীর শুরুতে গ্রন্থালোচনার মতো বইয়ের শিরোনাম, লেখকের নাম, বইয়ের ধরণ, প্রধান আলোচ্য বিষয়ের সারমর্ম, প্রধান চরিত্র বা চরিত্রগুলোর বর্ণনা, ISBN ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। সাহিত্যের বই বিবরণী লিখতে গিয়ে অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে পারে। কারণ কোন ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে তা অনেক সময় বুঝতে পারে না। কিন্তু গল্পের উপাদানসমূহ যেমন চরিত্র, কাহিনীবিন্যাস, সমস্যা ও তার সমাধান ইত্যাদির প্রেক্ষিতে কাজটা ততোটা জটিল নয়। কাহিনী, চরিত্রের পরিবর্তন ইত্যাদির প্রবহমানতাকে ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে সাহিত্য অর্থাৎ গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি জাতীয় বইয়ের বিবরণী লেখা সহজ মনে হবে। কিন্তু তথ্যমূলক মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনেকগুলো প্রশ্ন করতে হবে। যেমন: • লেখকের উদ্দেশ্য কী? • লেখক কি তার উদ্দেশ্য পূরণে সফল? • প্রধান চরিত্র কী করেছে, সে কি কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেছে; তার কোনো আচরণগত বা মানসিক পরিবর্তন কি হয়েছে? • প্রধান চরিত্রের আচরণ ও মানসিক অবস্থা কি বাস্তবসম্মত? • অন্যান্য চরিত্রগুলো কি জটিল? • চরিত্রগুলোর জটিলতা কি বিশ্বাসযোগ্য? • লেখকের কোনো মানসিক বৈশিষ্ট্য কি প্রধান চরিত্র বা অন্য কোনো চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে? • মানবীয় চরিত্রের কোনো বৈশিষ্ট্য কি প্রধান বা অন্য কোনো চরিত্রের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে? • প্রধান চরিত্রের সাথে কাহিনীর সজ্জাভঙ্গি কি ঠিক আছে? • চরিত্র এবং উপকাহিনীগুলোর এগিয়ে চলাকে মূল গল্পকাঠামো কীভাবে প্রভাবিত করেছে? বই সম্পর্কে বিবরণী লিখতে গিয়ে কেউ কেউ একটা সাধারণ ভুল করে ফেলে। সেটা হল লেখককে ভুলে যাওয়া। লেখক নিজের ইচ্ছা, প্রবণতা, ভাষা, কাহিনীবিন্যাস, চরিত্রের উন্নয়ন ইত্যাদির প্রকাশ বিভিন্নভাবে করে থাকেন। সাধারণত আত্মজীবনী না হলে লেখক নিজে গ্রন্থমধ্যে অনুপস্থিত থেকে যান। কিন্তু সেখানেও তিনি বিভিন্নভাবে নিজের কিছু কিছু চিহ্ন রেখে দেন। আপাতবিরোধী এটাই যে লেখক সম্পর্কে আপনার অনুধাবন নির্ভর করবে গল্প থেকে নিজেকে কতটুকু বিমুক্ত করতে পারলেন তার উপর। মনে করুন আপনি একটি বিশাল আয়তনের চিত্রশিল্পের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার দৃষ্টি শুধুমাত্র রঙের বিন্দু দেখবে। মূল ছবি বুঝতে পারবেন না। যখন আপনি এক পা দুই পা করে পিছিয়ে যেতে থাকবেন, তখন ছবির অবয়ব ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে। একইভাবে কাহিনী থেকে যখন নিজেকে বিমুক্ত করবেন তখনই লেখকের উদ্দেশ্য, ভাবনা এবং প্রবণতা উপলব্ধি করতে পারবেন। লেখকের উদ্দেশ্যঃ কেউ কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া লেখার ঝামেলায় যাবে না। ক্লাশের পাঠ্যবই লেখার যেমন উদ্দেশ্য আছে, ঠিক তেমন কল্পকাহিনী এমন কি রূপকথা লেখারও উদ্দেশ্য আছে। বই বিবরণীতে লেখকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপনার মূল্যায়নও লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। লেখকের উদ্দেশ্যকে চিহ্নিত করতে এই জাতীয় প্রশ্ন করতে পারেন। • লেখকের লক্ষ্য আমাকে তথ্য নাকি শুধু আনন্দ দেয়া? • আমি কি কিছু শিখলাম? • আমি কি বিনোদিত হয়েছি? • আমি কি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি? • যদি আমি বইটি পাঠে আগ্রহ হারাই তাহলে কি অন্যশ্রেণীর পাঠকের জন্য এটা লিখিত? • লেখক কি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট পথে চিন্তা করতে প্ররোচিত করছেন? • কোন বিষয়ে প্ররোচিত করছেন? • লেখক কোন পদ্ধতিতে আমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন? • আমি কি প্রভাবিত হয়েছি? লেখকের মতামতঃ বইয়ের ভূমিকাতেই লেখকের অভিপ্রায় বা ধারণা বা ভাবনা লিখিত থাকতে পারে; অথবা সেগুলো বর্ণনাকারীর বাক্য বা প্রধান চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। লেখকের ভাবনা বা মনোভঙ্গি বুঝতে হলে নিচের প্রশ্নগুলো করার চেষ্টা করুন: • বইয়ের প্রধান সমস্যা কী? • এটা কী ব্যক্তিগত, সামাজিক অথবা নৈতিক সমস্যা? • জীবন সম্পর্কে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে এই সমস্যার কতটা মিল আছে? • জীবন ও সমাজ সম্পর্কে লেখক কী ধরনের চিন্তা ধারণ করেন? • প্রধান চরিত্র বা চরিত্রগুলো কোন ধরনের শিক্ষা লাভ করেছে? • সেগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে? • সাধারণ মানুষ, সমাজ, নৈতিকতা বিষয়ে সেই শিক্ষার বক্তব্য কীরূপ? লেখকের মনোভাবঃ লেখক যে ভাবনাগুলো প্রকাশ করতে চাচ্ছেন, তা যখন ধরতে পারবেন তখন এর পাশাপাশি সেই ভাবনাগুলো নিয়ে লেখক কী মনোভাব পোষন করেন তাও আপনাকে বুঝতে হবে। সম্পূর্ণ কাজের মেজাজ, ভঙ্গি থেকে এটা উপলব্ধি করা যায়। আমরা প্রয়োজনবোধে বিশেষণ ব্যবহার করে লেখকের ভাবনার সুরকে বর্ণনা করতে পারি। সোজাসুজি, জটিল, বেদনাদায়ক, তিক্ত, হাস্যরসাত্মক, বিয়োগান্তক, বিদ্রুপাত্মক, রোমাঞ্চকর- এই জাতীয় শব্দ ব্যবহার করলে বর্ণনা অনেকাংশেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আলোচ্য গ্রন্থটিতে লেখকের মনোভাব বা ভাবনার সুর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার আগে নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করুন। • আপনার মনে আকর্ষণীয় লেগেছে এমন কোন বিশেষ পদ্ধতিতে কি বইয়ের কাহিনী সাজানো হয়েছে? • কোন বিশেষ দৃশ্য কি আছে, যা আপনাকে মনোযোগী করেছে? • সেই দৃশ্যের প্রভাব কেমন? তা কি সমস্ত বইতে ছড়িয়ে রয়েছে? • লেখক কি আশাবাদী না নিরাশাবাদী; নাকী বাস্তববাদী? লেখক তার এই মানসিক অবস্থা কীভাবে প্রকাশ করেছেন? • প্রধান চরিত্রের মধ্যে কোনো একটি বিশেষ মানসিক অবস্থা বা আবেগ প্রাধান্য পেয়েছে কী? আপনি এর নাম কী দিবেন? এটা কি রচনার প্রতিনিধিত্ব করে? • লেখকের কল্পনাবৈশিষ্ট্যকে বুঝতে রচনার মেজাজ আপনাকে সাহায্য করছে নাকি বাঁধা দিচ্ছে। উপসংহারে বলা যায় আসলে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লেখক সম্পর্কে একটি বুদ্ধিদীপ্ত মতামতে উপস্থিত হওয়া। কারণ একটি বইয়ের মূল্যায়নকার্য লেখক তাঁর কাজ কত ভালোভাবে করতে পেরেছেন তার মূল্যায়ন করবে। আপনার কাছে কতটুকু ভাল লেগেছে শুধুমাত্র তা বলবে না।
বই রিভিউ লেখার কিছু টিপস

বই রিভিউ লেখার কিছু টিপস

বইয়ের রিভিউ লিখার বাস্তবে কোনো ব্যাকরণ নাই। তবে ভালো রিভিউ লিখতে হলে আমাদের অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে রিভিউ লিখার মাধ্যমে আমরা যদি একটা বইয়ের সারসংক্ষেপ স্মার্টলি দক্ষতার সাথে তুলে ধরতে চাই এবং যথাসম্ভব বেশিসংখ্যক পাঠকের মানসপটে সেই বই সম্পর্কে নিখুঁত চিত্র আঁকতে চাই, তাহলে আমাদের কিছু সূত্র তো মেনে চলতেই হবে।
এখানে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো... প্রথমত, কোনো বই রিভিউ করতে হলে যথেষ্ঠ মনোযোগের সাথে পড়তে (অধ্যয়ন) হবে। প্রয়োজনীয় নোট করতে হবে পড়ার সময়ই। দ্বিতীয়ত, নিজের স্টাইলে বইকে না বুঝে, লেখকের স্টাইলে বুঝতে হবে। লেখকের ইন্টেনশন ধরার চেষ্টা করতে হবে। তৃতীয়ত, বই পড়ার সময় নির্মোহ থাকা। বই, বইয়ের লেখক এবং প্রকাশনী সংস্থার ব্যাপারে প্রিডিটার্মাইন্ড ভালো লাগা, খারাপ লাগা থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। চতুর্থত, নির্ধারণ করে নিতে হবে রিভিউ লিখবেন কাদের জন্য! সাধারণ পাঠকদের জন্য, ক্রেতাদের জন্য, বইয়ের তথ্য শেয়ার করার জন্য নাকি বই সম্পর্কে আগ্রহী করার জন্য। সেই আলোকে নোট নেওয়া দরকার। এরপর বই থেকে নির্দিষ্ট কোনো লাইন কোড করে অথবা বই সম্পর্কে দুটো দারুণ লাইন লিখে রিভিউ শুরু হতে পারে। যেন পাঠক রিভিউ পড়তে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন লিখুন মূল রিভিউ। মূল রিভিউয়ে যা খেয়াল রাখতে হবে : ০১. বইয়ের সংক্ষিপ্তসার, অনধিক ২৫০ শব্দ ০২. বই সম্পর্কে নিজের মন্তব্য ০৩. বইয়ের ভালো দিক/ খারাপ দিক ০৪. কেন বইটি অন্যদের পড়া উচিৎ ০৫. লেখক, অনুবাদকের পরিচিতি ও কর্মযজ্ঞ আরও খেয়াল রাখুন : • লেখক যা লিখেছেন, তা রিভিউ করুন। লেখক অথবা বই থেকে যা আপনি প্রত্যাশা করেছিলেন তার রিভিউ লিখবেন না • ঠিক ততটুকুই লিখুন যতটুকু লেখক কভার করেছেন। ইলাস্টিকের মতো টেনে বড় করবেন না • লেখক ও বইয়ের মূল ফোকাসটা ধরুন • কোনো বিদ্বেষ, ঈর্ষা, হিংসার জায়গাটা ভুলে যান • লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশনীর প্রতি মোহ ও ভালোবাসার টানে অহেতুক প্রশংসা পরিহার করুন ইম্প্যাক্ট : রিভিউকৃত বই কী ধরণের ইম্প্যাক্ট তৈরি করছে, কারা এই বই দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে, ইম্প্যাক্টে কারা বেনিফিসিয়ারি হচ্ছে তা খুবই কম শব্দে লিখুন। রেটিং : শেষের দিকে বই সম্পর্কে একটা রেটিং দিন।